ভুক্তভোগী সহায়তা

অনলাইনে জিডি করার নিয়ম

প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা কিছু হারিয়েছেন? থানায় না গিয়েই বাংলাদেশ পুলিশের Online GD সেবায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন — বিনামূল্যে, ধাপে ধাপে।

কোথায়gd.police.gov.bdবা "Online GD" অ্যাপ
খরচবিনামূল্যেকোনো সরকারি ফি নেই
যেখানে চালুসারা দেশের সব থানায়সব ধরনের জিডি
সমস্যা হলে০১৩২০-০০১৪২৮অনলাইন জিডি হটলাইন
এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে বা অভিযুক্ত ব্যক্তি সামনে থাকলে জিডির অপেক্ষা করবেন না — ৯৯৯-এ কল করুন। টাকা পাঠিয়ে থাকলে আগে বিকাশ/নগদ/রকেট/ব্যাংকের হেল্পলাইনে জানান। সব জরুরি নম্বর →

জিডি নাকি মামলা?

জিডি (সাধারণ ডায়েরি) হলো কোনো ঘটনা থানার খাতায় লিপিবদ্ধ করে পুলিশকে জানানো। মামলা (এজাহার বা এফআইআর) হলো অপরাধের বিচার চাওয়ার আনুষ্ঠানিক শুরু।

GDজিডি করুন যখন

  • এনআইডি, পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট, মোবাইল বা অন্য কিছু হারিয়েছে
  • হুমকি বা হয়রানি পাচ্ছেন — ভবিষ্যতের জন্য রেকর্ড রাখতে চান
  • প্রতারণার ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানিয়ে রাখতে চান

মামলামামলা করুন যখন

  • প্রতারণা করে টাকা নেওয়া হয়েছে (দণ্ডবিধি ৪২০ ধারা) এবং আপনি বিচার ও টাকা ফেরত চান
  • অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল, হ্যাকিং বা অননুমোদিত লেনদেন হয়েছে — সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রযোজ্য
  • পুলিশ আপনার অনলাইন অভিযোগকে মামলাযোগ্য বলে জানিয়েছে

প্রতারণার শিকার হলে জিডি একটি ভালো প্রথম পদক্ষেপ: ঘটনার তারিখসহ সরকারি রেকর্ড থাকে, যা পরে মামলা, ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাছে অভিযোগে কাজে লাগে।

শুরুর আগে যা লাগবে

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ও জন্মতারিখ
  • সিমসহ অ্যান্ড্রয়েড ফোন (অ্যাপের জন্য) বা ক্যামেরাসহ ডিভাইস
  • OTP পাওয়ার জন্য সক্রিয় মোবাইল নম্বর
  • ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান ও বিবরণ
  • প্রমাণ: স্ক্রিনশট, রসিদ, লিংক (নিচের তালিকা দেখুন)
  • প্রায় ১৫ মিনিট সময়

ধাপে ধাপে অনলাইন জিডি

  1. অ্যাপ নামান বা ওয়েবসাইটে যান। গুগল প্লে স্টোর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের "Online GD" অ্যাপ নামান, অথবা ব্রাউজারে gd.police.gov.bd খুলুন।
  2. একবার নিবন্ধন করুন। জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নম্বর ও জন্মতারিখ দিন, পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মোবাইলের ক্যামেরায় নিজের লাইভ ছবি তুলুন, মোবাইল নম্বরে আসা OTP দিয়ে নম্বর নিশ্চিত করুন এবং পাসওয়ার্ড ঠিক করুন। একবার নিবন্ধন করলে পরে আর করতে হয় না।
  3. জিডির ধরন বেছে নিন। লগইন করে নতুন জিডি শুরু করুন। হারানো জিনিস/কাগজ, প্রাপ্তি বা অন্য কোনো বিষয় — যেটি প্রযোজ্য সেটি বেছে নিন।
  4. জেলা ও থানা বেছে নিন। যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা যেখানে আপনি থাকেন, সেই জেলা ও থানা নির্বাচন করুন।
  5. ঘটনার বিবরণ লিখুন। ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান দিন, বর্তমান ঠিকানা লিখুন এবং বিস্তারিত বিবরণ দিন। নিচের নমুনা লেখাটি কাজে লাগাতে পারেন।
  6. প্রমাণ যুক্ত করুন। স্ক্রিনশট, লেনদেনের রসিদ বা অন্য প্রাসঙ্গিক কাগজ থাকলে সংযুক্ত করুন।
  7. মিলিয়ে দেখে জমা দিন। সব তথ্য আবার দেখুন — ভুল থাকলে "এডিট" করে ঠিক করুন, তারপর "সাবমিট" চাপুন।
  8. জিডির কপি নিন ও অগ্রগতি দেখুন। আবেদন জিডি হিসেবে গৃহীত হলে জিডি নম্বর, তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্যসহ ডিজিটাল কপি পাবেন। পরে লগইন করে অবস্থা দেখতে পারবেন।

প্রতারণার জিডির নমুনা লেখা

জিডির "বিস্তারিত বিবরণ" ঘরে এই লেখাটি কপি করে বসান, তারপর বন্ধনীর [ ] জায়গাগুলো আপনার তথ্য দিয়ে বদলে দিন। যা ঘটেছে শুধু তা-ই লিখুন।

আমি [আপনার নাম], পিতা/স্বামী: [নাম], ঠিকানা: [বর্তমান ঠিকানা], মোবাইল: [আপনার নম্বর]।

গত [তারিখ], [সময়] আমি ফেসবুক পেজ/ওয়েবসাইট "[পেজ বা সাইটের নাম]" ([লিংক]) থেকে [পণ্য/সেবার নাম] কেনার জন্য তাদের দেওয়া [বিকাশ/নগদ/রকেট/ব্যাংক] নম্বর [প্রাপকের নম্বর]-এ [টাকার পরিমাণ] টাকা পাঠাই (ট্রানজ্যাকশন আইডি: [TrxID])।

টাকা পাওয়ার পর তারা পণ্য/সেবা দেয়নি, যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে এবং আমাকে ব্লক করেছে। এভাবে আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। চ্যাট, পেজের লিংক ও লেনদেনের স্ক্রিনশট প্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত করলাম।

বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।

যে প্রমাণগুলো রাখবেন

✓ সংরক্ষণ করুন

  • পুরো চ্যাটের স্ক্রিনশট — তারিখ ও সময়সহ
  • পেজ/প্রোফাইল/ওয়েবসাইটের লিংক (URL) ও তার স্ক্রিনশট
  • টাকা পাঠানোর মেসেজ, ট্রানজ্যাকশন আইডি ও প্রাপকের নম্বর
  • অভিযুক্ত ব্যক্তির ফোন নম্বর, কলের তালিকা ও বিজ্ঞাপনের ছবি

✕ করবেন না

  • চ্যাট বা মেসেজ মুছে ফেলা
  • "টাকা ফেরত দেব" বলা কাউকে আবার টাকা বা OTP দেওয়া
  • স্ক্রিনশট এডিট বা ক্রপ করে তথ্য বাদ দেওয়া
  • অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া — এতে প্রমাণ নষ্ট হতে পারে

সাধারণ জিজ্ঞাসা

অনলাইনে জিডি করতে কি টাকা লাগে?
না। জিডি করতে কোনো সরকারি ফি নেই — অনলাইনে বা থানায়, কোথাও না। কেউ টাকা চাইলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানান।
অনলাইনে কোন ধরনের জিডি করা যায়?
শুরুতে শুধু হারানো ও প্রাপ্তি বিষয়ক জিডি করা যেত। পুলিশ সদর দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে দেশের সব থানায় সব ধরনের জিডি অনলাইনে করা যায়।
প্রতারণার জন্য কি শুধু জিডি করলেই হবে?
প্রতারণা (দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা) একটি ফৌজদারি অপরাধ, তাই প্রতিকার পেতে সাধারণত থানায় মামলা (এজাহার) করতে হয়। জিডি ঘটনার প্রাথমিক রেকর্ড হিসেবে কাজে লাগে। অনলাইনে জমা দেওয়া অভিযোগ মামলাযোগ্য হলে আবেদনের প্রিন্ট কপি বা কোড নম্বর নিয়ে থানায় যেতে বলা হবে।
আমার স্মার্টফোন বা NID নেই — কী করব?
অনলাইন নিবন্ধনে NID ও লাইভ ছবি লাগে। তা না থাকলে নিকটস্থ থানায় গিয়ে সরাসরি জিডি করতে পারেন — সেটিও বিনামূল্যে।
নিবন্ধন বা আবেদনে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করব?
অনলাইন জিডির হটলাইন ০১৩২০-০০১৪২৮-এ কল করুন।
জিডির পর পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে?
জিডি নম্বর দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন; প্রয়োজনে থানার ওসি বা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করুন। আদালতে সরাসরি নালিশি মামলাও করা যায় — বিনামূল্যে আইনি পরামর্শের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা হেল্পলাইন ১৬৪৩০-এ কল করুন।

তথ্যসূত্র ও দায়মুক্তি

এই নির্দেশিকা বাংলাদেশ পুলিশের ঘোষণা ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য থেকে তৈরি — সর্বশেষ যাচাই: অক্টোবর ২০২৬. এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; অ্যাপের ধাপ বা নিয়ম বদলাতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনজীবী বা থানার পরামর্শ নিন।