বেনামি ব্যবহারকারী
৩ দিন আগে
৫৯ বার দেখা হয়েছে
TARGET PROFILE
ক্ষতি৳57,481

অভিযুক্ত · ফেসবুক পেজ · #CS-00939

Fashion house

বিকাশ/নগদ প্রতারণাঅগ্রিম টাকা নিয়ে উধাও ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইমেইল

[email protected]

হোয়াটসঅ্যাপ

+8801852062367 Chat

প্রমাণ 6

অনলাইন উপস্থিতি

বিস্তারিত

ফেসবুক পেজ আর সুন্দরবনের কুরিয়ার মিলে এই প্রতারণা করে। সন্দরবন করিয়ার থেকে 01831787427 নাম্বার বিকাশের মাদ্ধ্যমে টাকা নিয়ে নেয়

তৈরি: 24 Oct 2026 Approved by admin

অনলাইন শপ ও কুরিয়ারের নামে প্রতারণা! একজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি প্রতারণার ঘটনা সবার সঙ্গে শেয়ার করছি, যাতে অন্য কেউ এমন পরিস্থিতির শিকার না হন। ঘটনার শুরু যেভাবে: পরিচিত ওই ব্যক্তি "ফ্যাশন হাউস" নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১,০০০ টাকার একটি পণ্য অর্ডার করেন। পেজটি তাঁকে দুটি অপশন দেয়। প্রথমত, ১৩০ টাকা ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ৩০০ টাকা অগ্রিম দিলে ডেলিভারি চার্জ ফ্রি। তিনি দ্বিতীয় অপশনটি বেছে নিয়ে ৩০০ টাকা অগ্রিম পেমেন্ট করেন। এরপর দুই দিন পর সুন্দরবন কুরিয়ারের পরিচয়ে ০১৮৩১৭৮৭৪২৭ নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করা হয়। ফোনে জানানো হয়, তাঁর পার্সেল কুরিয়ারের কাছে পৌঁছেছে। পার্সেলটি গ্রহণ করে ডেলিভারি পেতে তাঁকে ৯৯৯ টাকা এবং এর সঙ্গে ট্যাক্স বাবদ অতিরিক্ত টাকা বিকাশে পাঠাতে হবে। তিনি জানান, পণ্যটি ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) পদ্ধতিতে অর্ডার করেছেন। তাই পণ্য হাতে পাওয়ার পর টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি বিভিন্ন কথা বুঝিয়ে তাঁকে পেমেন্ট করতে রাজি করান। যেহেতু পণ্যের অর্ডার ছিল ১,০০০ টাকার, তাই তিনি ১,০০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। এরপর তাঁকে আবার ফোন করে বলা হয়, তিনি কেন ১,০০০ টাকা পাঠিয়েছেন, যেখানে তাঁকে ৯৯৯ টাকা ও ট্যাক্স দিতে বলা হয়েছিল! তিনি জানান, ট্যাক্সের বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতে পারেননি। তখন তাঁকে বলা হয়, ট্যাক্স বলতে ক্যাশ আউট চার্জ বোঝানো হয়েছে। এরপর আগের টাকার সমপরিমাণ অর্থ ও ক্যাশ আউট চার্জসহ ১,০২০ টাকা আবার পাঠাতে বলা হয়। মাত্র ৭–১০ মিনিটের সময় বেঁধে দেওয়ায় তিনি তাড়াহুড়ো করে টাকা পাঠিয়ে দেন। এরপর শুরু হয় একের পর এক টাকা চাওয়ার ঘটনা। কিছুক্ষণ পর তাঁকে আবার ফোন করে বলা হয়, "আপনি কি আমার চাকরি খাবেন নাকি? বারবার কেন ভুল অ্যামাউন্ট দিচ্ছেন?" তিনি নিজের ভুল জানতে চাইলে বলা হয়, তাঁকে ২,০২০ টাকার সঙ্গে ট্যাক্স যোগ করে পাঠাতে হতো। এরপর আবার ৪,০৪০ টাকা পাঠাতে বলা হয়। তিনি তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে সেই টাকাও পাঠিয়ে দেন। এরপর একে একে তাঁর কাছ থেকে ৮,১৫০, ৬,৭০০, ৭,০৭০, ২,০৪০, ২,৯৯৯, ৪,৯৬১, ৫,০৫২ ও ৫,২১৫ টাকা নেওয়া হয়। আপনারা হয়তো ভাবছেন, তিনি কেন বারবার টাকা পাঠাচ্ছিলেন? মূলত প্রতিবারই তাঁকে নতুন কোনো সমস্যার কথা বলে ভয় দেখানো হচ্ছিল এবং দ্রুত টাকা পাঠাতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি বুঝতেই পারেননি যে এভাবে তিনি একটি প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যাচ্ছেন। তিনি একজন ছাত্র। কখনো চাকরি বা ব্যবসা করেননি। তাঁর সঞ্চয়ও খুব সামান্য। তিনি নিজের মায়ের কাছ থেকে ৮,০০০ টাকা ধার নেন, কিন্তু কেন টাকা প্রয়োজন, তা মাকে জানাতে পারেননি। বন্ধুর কাছ থেকেও টাকা ধার করেন। এভাবে নিজের সঞ্চয় ও ধার করা টাকা মিলিয়ে সব অর্থ তাঁদের পাঠিয়ে দেন। নতুন সার্ভার তৈরির নামেও নেওয়া হয় টাকা। এরপর তাঁকে ফোন করে বলা হয়, তাঁর নামে থাকা সার্ভারটি নাকি ব্লক হয়ে গেছে। তাই "ফ্যাশন হাউস" পেজের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন সার্ভার তৈরি করতে হবে। তিনি তাঁদের কথামতো পেজটির সঙ্গে যোগাযোগ করে সুন্দরবন কুরিয়ারে নতুন সার্ভার তৈরি করে দিতে বলেন। এরপর তাঁকে জানানো হয়, নতুন সার্ভারের জন্য প্রথমে ১,০০০ টাকা এবং সর্বশেষে ৫,২১৫ টাকা পেমেন্ট করতে হবে। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হবে এবং আগের সব টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। তিনি জানান, তাঁর কাছে তখন মাত্র ৪,০০০ টাকা আছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে টাকা পাঠানোয় এর বেশি দেওয়া সম্ভব নয়। তখন তাঁকে বলা হয়, ৪,০০০ টাকা পাঠালেই হবে। বাকি টাকা তাঁরা নিজেদের পক্ষ থেকে দিয়ে দেবেন এবং ১০–১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর বিকাশে সব টাকা ফেরত পাঠিয়ে দেবেন। আবারও তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি টাকা পাঠান। এভাবে তাঁদের কাছে পাঠানো মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৭,৪৮১ টাকা। কিন্তু সেদিন তাঁকে আর কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। পরদিন সকাল থেকে ফোন করলেও তাঁরা কল ধরেননি। টাকা ফেরত দেওয়ার নামে শুরু হয় নতুন নাটক। পরদিন দুপুর ৩টার দিকে ফোন করে জানানো হয়, কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু রাত ৮টার দিকে তাঁকে আবার বলা হয়, বিকাশে নয়, ব্যাংক থেকে টাকা পাঠানো হবে। তাঁদের দাবি, ব্যাংক থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর সীমা ৭০,০০০ টাকা এবং নগদে ৬৫,০০০ টাকা। এরপর তাঁকে জানানো হয়, তাঁর টাকা নাকি নগদ অ্যাকাউন্টে ৬৫,০০০ টাকা হিসেবে এন্ট্রি করা হয়েছে। কিন্তু ৬৫,০০০ টাকা পূর্ণ করতে আরও ৭,৫০০ টাকা দিতে হবে। তাহলেই নাকি মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে তাঁর টাকা ফেরত চলে আসবে। তিনি জানান, তাঁর কাছে আর এক টাকাও নেই। চুরি করা ছাড়া এত টাকা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তখন তাঁকে বলা হয়, যেকোনো দোকানে গিয়ে ৭,৫০০ টাকা ক্যাশ-ইন করাতে। পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে টাকা পেয়ে গেলেই দোকানদারকে সেই টাকা ফেরত দিয়ে দিতে পারবেন। তবে এবার তিনি আর তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে ঝুঁকি নেননি। অবশেষে তাঁর কাছে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতিবাদ করার পরও থামেনি তাঁদের দাবি। চার দিন ধরে তিনি তাঁদের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলেছেন। কিন্তু এবার তিনি রেগে গিয়ে জানিয়ে দেন, আর কোনো টাকা দেবেন না এবং প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেবেন। তখন তাঁকে বলা হয়, পুলিশ, ওসি, আর্মি, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এলেও নাকি এই সমস্যার সমাধান করতে হলে ৭,৫০০ টাকা দিতেই হবে! শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে তিনি তাঁর বাবাকে পুরো ঘটনা জানান। তাঁর বাবা ওই নম্বরে ফোন করে প্রতিবাদ করেন। এরপর তাঁরা আবার নতুন প্রস্তাব দেন। তাঁরা বলেন, তাঁরা নাকি নিজেদের পক্ষ থেকেও কিছু টাকা দেবেন। তাঁকে শুধু ৩,৫০০ টাকা দিতে হবে, বাকি টাকা তাঁরা দেবেন। কিন্তু তাঁর বাবা এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তাঁদের ঠিকানা জানতে চাইলে তাঁরা জানান, তাঁরা নাকি টঙ্গী স্টেশন রোডের পাশে অবস্থান করছেন। এখন তাঁর বাবা পুলিশ নিয়ে সেখানে যাওয়ার কথা ভাবছেন। তবে প্রতারকদের খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, যাতায়াতের খরচ হবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। একজন ছাত্রের জন্য ৫৭,৪৮১ টাকা অনেক বড় অঙ্কের টাকা। নিজের সঞ্চয় ও অন্যদের কাছ থেকে ধার করা টাকা মিলিয়ে তিনি এই অর্থ হারিয়েছেন। এরপরও তাঁকে আরও ৭,৫০০ টাকা দিতে বলা হচ্ছে।
বেনামী রিপোর্টকারী
0

কমিউনিটির মন্তব্য
ড্যাশবোর্ডে ফিরে যান

Capscan-এ কীভাবে একটি রিপোর্ট যোগ হয়

১. তথ্য সংগ্রহ: ব্যবহারকারী প্রতারণার শিকার হলে প্রমাণসহ (স্ক্রিনশট, ফোন নম্বর, পেমেন্ট ডিটেইলস) ওয়েবসাইটে রিপোর্ট জমা দেন।

২. প্রাথমিক যাচাই: আমাদের মডারেটর প্যানেল জমাকৃত প্রমাণ ও তথ্যগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখেন।

৩. চূড়ান্ত অনুমোদন: প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অ্যাডমিন প্যানেল রিপোর্টটি অ্যাপ্রুভ করে পাবলিকলি প্রকাশ করে, যাতে অন্যরা সতর্ক হতে পারে।

অভিযোগ করুন

একটি কারণ নির্বাচন করুন

অভিযোগ জমা হয়েছে

আমরা শীঘ্রই তদন্ত করব।